![]() |
| প্রতীকী ছবি |
শিয়া ইসলাম
শিয়া ইসলাম
যদিও অপরিচিত নয়, তবুও ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহের ধারাবাহিক আলোচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামের জন্ম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শিক্ষা থেকে, আর ইব্রাহিম (আঃ)-এর বংশধারায় এর
শিকড়।
তবে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওফাত-এর পর মুসলিম সমাজে নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজন ঘটে।
- যারা আবু বকর (রাঃ)-কে প্রথম খলিফা মেনে নেন, তারা সুন্নি।
- আর যারা মনে করেন নেতৃত্ব কেবল নবী পরিবারের (আহলে বাইত), বিশেষত আলী (রাঃ) ও তাঁর উত্তরসূরিদের প্রাপ্য—তাদের বলা হয় শিয়া।
শিয়া ইসলাম
হলো ইসলামের একটি প্রধান শাখা, যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব বা খিলাফতের
প্রশ্নে মতবিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়। শিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী, নবীর উত্তরসূরি বা খলিফা
কেবল তাঁর পরিবার তথা আহলে বাইত থেকে হতে হবে। বিশেষ করে তাঁরা মনে করেন যে
নবীর চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) ছিলেন যথার্থ উত্তরসূরি।
শিয়া মতবাদে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইমামত। তাঁদের মতে, ইমাম শুধু রাজনৈতিক নেতা নন;
বরং তিনি আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক এবং নির্ভুল (মাসুম) ব্যক্তিত্ব।
শিয়াদের বিভিন্ন
উপশাখা রয়েছে:
(১) ইমামিয়া (বারো ইমামি) —
সবচেয়ে বড় শাখা; ইরান, ইরাক, লেবানন, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত।
(২) ইসমাইলি — ইমাম জাফর
সাদিক (রাঃ)-এর উত্তরাধিকার প্রশ্নে আলাদা হয়ে যায়; পরবর্তীতে ফাতেমিদ সাম্রাজ্যের
সঙ্গে যুক্ত।
(৩) জায়দি — ইয়েমেনকেন্দ্রিক
শাখা। তুলনামূলকভাবে সুন্নিদের নিকটবর্তী মতবাদ অনুসরণ করে।
বর্তমানে শিয়া
মুসলিমরা বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ১০–১৫ শতাংশ। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,
ইমামতকেন্দ্রিক বিশ্বাস এবং কারবালার ঘটনার স্মরণ (আশুরা) শিয়া পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
পূর্ববর্তী পর্বঃ রাসতাফারি ধর্ম









Leave a Reply